সীমান্ত পাহারায় এবার মানুষের বদলে দেখা যেতে পারে হিউম্যানয়েড রোবট। চীন-ভিয়েতনাম সীমান্তের ব্যস্ততম চেকপয়েন্টে কাজ শুরু করতে যাচ্ছে ‘ওয়াকার এস২’ (Walker S2) নামের মানুষের আদলে তৈরি একটি উন্নত রোবট। এটি তৈরি করেছে শেনজেনভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান UBTECH Robotics।
প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরীক্ষামূলক কার্যক্রম সফল হলে ধাপে ধাপে সীমান্ত এলাকায় রোবট মোতায়েন বাড়ানো হবে।
বর্তমানে চীনের গুয়াংজি প্রদেশের উপকূলীয় শহর Fangchenggang-এ সীমান্তরক্ষী হিসেবে রোবটগুলোর কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হচ্ছে। প্রতিদিন হাজার হাজার মালবাহী ট্রাক, বাস ও পর্যটকের চলাচল এই সীমান্ত দিয়ে হয়। এসব রোবট যাত্রী ও যানবাহনের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে কর্তৃপক্ষকে সহায়তা করছে। দক্ষতা যাচাই শেষে বিমানবন্দর, সমুদ্রবন্দর এবং ব্যস্ত রেলস্টেশনেও এ প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।
‘ওয়াকার এস২’ একটি পূর্ণাঙ্গ হিউম্যানয়েড রোবট, যা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর সিস্টেমে পরিচালিত। এটি শুধু যান্ত্রিক কাঠামো নয়; বরং চারপাশের পরিবেশ বিশ্লেষণ করে তা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে পারে। ভিড়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা এবং সংঘর্ষ এড়াতে এতে ব্যবহার করা হয়েছে উন্নত ক্যামেরা, ডেপথ সেন্সর ও জয়েন্টভিত্তিক ফোর্স-ফিডব্যাক প্রযুক্তি। দায়িত্ব পালনের সময় ব্যাটারি শেষ হয়ে গেলে রোবটটি মানুষের সাহায্য ছাড়াই নিজে নিজেই ব্যাটারি প্যাক পরিবর্তন করতে সক্ষম, ফলে টানা কাজ চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়।
ফাংচেংগাং সীমান্তে রোবটগুলো মূলত লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রীদের দিকনির্দেশনা দেওয়া, যানবাহন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করা এবং সাধারণ প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার কাজ করছে। পাশাপাশি করিডর ও ওয়েটিং এরিয়ায় টহল দিয়ে কোনো অস্বাভাবিক ভিড় বা পথ অবরোধ শনাক্ত করলে তা দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানাতে পারে। এতে সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় গতি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা সহজ হচ্ছে।
সীমান্তের বাইরেও কঠিন ও উচ্চ তাপমাত্রার পরিবেশে, যেমন স্টিল বা অ্যালুমিনিয়াম কারখানায় ঝুঁকিপূর্ণ পরিদর্শন কাজে এই রোবট ব্যবহার করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিপজ্জনক শিল্পক্ষেত্রে মানবশ্রমের ঝুঁকি কমাতে হিউম্যানয়েড রোবট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
চীন ২০২৫ সালের মধ্যে হিউম্যানয়েড রোবট শিল্পে বৈশ্বিক উদ্ভাবনের কেন্দ্র হয়ে ওঠার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে বেইজিংয়ে প্রায় তিন হাজার বর্গমিটার জায়গাজুড়ে একটি বিশেষ প্রশিক্ষণকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। প্রযুক্তি খাতে স্বয়ংক্রিয়তা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়িয়ে ভবিষ্যতের স্মার্ট অবকাঠামো গড়ে তোলাই দেশটির দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ। সূত্র: ইউবিটেক রোবটিকস ও আর্থ ডট কম